‘মানুষ-বাঁধা’র ঘর

রবীন্দ্রনাথ যে ঘর বাঁধার তাড়না অনুভব করেছিলেন তার রূপ ব্যতিরেকে উদ্দেশ্যগত একটি আলাদা তাৎপর্য আছে। ঘরটি তিনি মানুষের জন্য বাঁধতে চেয়েছিলেন। এমন ভাবে বাঁধতে চেয়েছিলেন যাতে মানুষ তার সক্রিয়, সজীব এবং প্রধান অনুষঙ্গ হয়। বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের ঘর আছে, কিন্তু ঘর মানুষের হতে হলে যে প্রয়োজনীয় শর্তটি দরকার তাই যেনো হারিয়েছে। মানুষ বড্ড গৌণ হয়ে আছে। উন্নয়ন, বিকাশ, ঊর্ধ্ব গগনে যাত্রা সবই চলছে, মানুষের জন্য চলছে- মানুষের নামেই চলছে। কিন্তু কোথাও যেনো সে নেই। সাধারণ বিশেষ্য রূপে তার হাজিরা আছে।

রণজিৎ গুহ ও ‘সমালোচনা’

রণজিৎ গুহের প্রশ্নটি আসলে এরচেয়েও গভীর। ভদ্রলোক-সমাজ তার নিজের চিত্রায়ণ যেভাবে ইচ্ছা করুক, কিন্তু তাদের এরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে অঙ্কিত কৃষকসহ অন্য নিম্নবর্গের মানুষ যদি হয়ে ওঠে নিম্নবর্গের প্রতিনিধি, তাহলে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি তো বিপুল। বাংলা সাহিত্যে ‘নীল-দর্পণে’র তোরাপের পরিচিতি কৃষক-সমাজের এক তুরীয় প্রতিনিধি হিসাবে।

ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস-রচনার কতিপয় দিক প্রসঙ্গে।। রণজিৎ গুহ

তর্জমা : ইয়ামিন রহমান ইস্ক্রা সম্পাদকের ভূমিকা প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রণজিৎ গুহ-র জন্ম তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বাকেরগঞ্জের সিদ্ধকাটি গ্রামে (বাকেরগঞ্জ উপজেলা বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় এবং সিদ্ধকাটি...

ইতিহাসের ধারণা প্রসঙ্গে।। ওয়াল্টার বেনিয়ামিন

ইতিহাসের ধারণা প্রসঙ্গে-র প্রধান বিষয়বস্তু ঐতিহাসিক বস্তুবাদের ঐতিহ্যের মধ্যে হাজির থাকা ইতিহাসের ধারণা। বেনিয়ামিনের আমলের ঐতিহাসিক বস্তুবাদী ঐতিহ্য বহন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষগুলো সরল রৈখিক সময়ের মধ্য দিয়ে ক্রমশ প্রগতির দিকে এগিয়ে যাওয়া যেই ধরণের ইতিহাসবাদী চিন্তায় আটকে গিয়েছিল, তা এই লেখার সমালোচনার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

গণমাধ্যমের ভাষা

আমাদের প্রথমে আসলে গণমাধ্যমের ভাষা বলতে কী বুঝব, আর কোন অংশের ভাষা নিয়ে আলাপ করছি, তা নির্ধারণ করা উচিত। সাধারণভাবে গণমাধ্যমের ভাষা বলে কিছু থাকতে পারে না। কারণ, গণমাধ্যম যেমন এক রকমের নয়, ঠিক তেমনি একটি গণমাধ্যমেও এক রকমের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় না, বা এক ধরনের লেখালেখি হয় না। দুই দশক আগে যখন গণমাধ্যম হিসাবে টিভি বা রেডিওর প্রতাপ ছিল, তখনকার কথাই ভাবা যাক।

মাংস খাওয়া না–খাওয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতি

উৎপাদন বা মজুদ বাড়লেই সকলের খাওয়া বাড়েনা। বরং কমতে পারে। কারণ বড়োলোকের পাগলা চাহিদার চাপ সামলাতে 'ছোটলোকে'র শস্যের জমিতে টান পড়ে। গরু বেড়েছে, মুরগি বেড়েছে, ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, অথচ কোথাকার ফলানো খাদ্য কোথায় যাচ্ছে, কে পাচ্ছে কে পাচ্ছেনা, যে পাচ্ছেনা সে কেন পাচ্ছেনা, যে পাচ্ছে তার আসলেও এতটা দরকার আছে কিনা, সীমিত সম্পদের দেশে এইসব রাজনৈতিক প্রশ্ন ওঠাতেই হবে।

স্বাধীনতা থেকে পলায়ন অথবা স্বাধীনতার ভীতি

ফ্রম দেখিয়েছেন, গণতন্ত্রের এই যুগেও, মানুষকে কি করে মেনে চলার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত করা হয়, আমাদের আবেগ-অনুভূতিগুলিকে দমিয়ে রাখা হয়, যার শুরু শিশুকাল থেকেই শুরু হয়। ফ্রম তাই মেকি স্বাধীনতা অর্থাৎ ঋনাত্মক স্বাধীনতা থেকে ধনাত্মক স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যেতে বলেন।

গোপন সম্মেলনের অজানা নথি

মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতির পর জনস্মৃতিতে আমরা প্রায়ই জড়িত নানা পক্ষের ভূমিকা সাদা-কালোর ব্যাখ্যায় নামিয়ে ফেলি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই প্রবণতা আরও প্রকটভাবে...

রাষ্ট্রভাবনায় ‘জাতিসত্তা’ বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের জন্মের পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে। পাঁচ দশকে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের বিচিত্র বাস্তবতায় নানারকম রাজনৈতিক দর্শনেরও জন্ম হয়েছে। মোটা দাগে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দর্শনসমূহ নিতান্তই অগভীর ও বিপজ্জনক।

বাংলাদেশে প্রসারমান মিডিয়া-সংস্কৃতি

প্রযুক্তি-নির্ভর প্রকাশের ক্ষেত্রে আসা পরিবর্তনগুলোর নতুনত্বের ওপর গুরুত্বারোপের সাথে সাথেই জরুরি হলো, রাজনৈতিক চৈতন্যের ক্ষেত্রে আসা পরিবর্তনগুলোও নিবিড়ভাবে পাঠ করা। আজকাল সমাজ কতো সফলভাবে প্রযুক্তির বিন্যাস ঘটাতে পারছে তার ওপরে সম্পদ, ক্ষমতা ও জ্ঞানের প্রবৃদ্ধি অনেকখানিই নির্ভরশীল।