হোয়াই নেশনস ফেইল : মুখবন্ধ
দারোন অ্যাসেমোগলু ও জেমস এ রবিনসন; ভাষান্তর: মোহাম্মদ আরিফ খান অর্থনীতিবিদ দারোন অ্যাসেমোগলু ও জেমস এ রবিনসন রচিত ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’ গ্রন্থটির অনুবাদ খুব শীঘ্রই...
একটি রাষ্ট্রনৈতিক জার্নাল
দারোন অ্যাসেমোগলু ও জেমস এ রবিনসন; ভাষান্তর: মোহাম্মদ আরিফ খান অর্থনীতিবিদ দারোন অ্যাসেমোগলু ও জেমস এ রবিনসন রচিত ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’ গ্রন্থটির অনুবাদ খুব শীঘ্রই...
৩০ সদস্যের জাতীয় সমন্বয় পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রচিন্তার নব-পর্যায়ের যাত্রা শুরু আজ ০৬ আগস্ট ২০২১, শুক্রবার সকাল ১১টায় এক প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে রাষ্ট্রচিন্তার বিভিন্ন ইউনিটের...
প্রথম আলোতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ছবি ছাপা হয়েছে, যা যুদ্ধের বিভীষিকা তুলে ধরে, পশ্চিমা বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরে। বেশ কিছু ভাল রিপোর্টও আমরা দেখি প্রথম আলোর পাতায়। আর অভিমত পাতায় যে-লেখাগুলোর অনুবাদ ছাপা হয়েছে তার অধিকাংশ লেখাই এই যুদ্ধকে বোধগম্য করে তুলোর জন্য খুবই উপযোগী। কিন্তু সাথে সাথেই বিবেচনায় রাখা দরকার যে প্রথম আলোতে পশ্চিমা প্রচারণাকেও নিভরযোগ্য সত্য হিসেবে তুলে ধরেছে। অধিকাংশ রিপোর্টে পশ্চিমা সংবাদসূত্রের জবানকেই আশ্রয় দেয়া হয়েছে যারা আক্রমণকারীর চোখে এই হামলার ‘ধারাভাষ্য’ দিয়েছে।
বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্র প্রথম আলোর এক মাসের বিষয়বস্তু বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নিবন্ধ তৈরী করা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০১ থেকে ১১ অক্টোবর ২০০১ সময়কালের প্রথম আলোর প্রতিটি সংখ্যার খবর-মন্ত্যব্য
মানুষ দুই কারণে অন্যায় অবিচারের কাছে নতি স্বীকার করে: একটি হলো তারা এটাকে অন্যায়-অবিচার হিসেবে ঠাহর পারে না। একজন যুবক সামরিক বাহিনীকে যোগ দিতে পারে এইটা না জেনেই যে তাকে এমন একটা যুদ্ধে যোগ দিতে হতে পারে যা নৈতিকভাবে ন্যয়সঙ্গত নয়।
আমার বিশ্বাস, আমার বইয়ের বার্তাটি এসময়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। কেননা শুধুমাত্র ভাইরাস-ই সংক্রামক নয়, আমাদের ব্যবহারও তাই। যদি আমরা ধরে নিই, বেশিরভাগ মানুষ প্রকৃত অর্থেই স্বার্থপর এবং এর ভিত্তিতে এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে চাই, তবে মানুষের মাঝেও আমরা এটার প্রকাশ দেখতে পাবো। কিন্তু যদি আমরা ভাবি, বেশিরভাগ মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে চায় এবং তারা অন্যকে সাহায্য করতে চায়, কেবল তখনই আমরা মানুষকে উৎসাহিত করতে পারব। এটা কিছুটা চটকদার শোনালেও দয়া বা পরোপকারিতা যে আসলেই সংক্রামক সে ব্যাপারে বহু মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণাদি আছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এগুলো ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি আপনি যাদেরকে চেনেন না, কখনো দেখেননি তাদেরকেও অনুপ্রাণিত করে।
রাজনৈতিক কর্মী ও এক্টিভিস্টদের কাছে, বিশেষ করে যারা অহিংস ধারা বা নন-ভায়োলেন্ট সিভিল রেসিস্ট্যান্স নীতিকে ধারণ করেন বা কার্যকর কৌশল হিসাবে মনে করেন তাদের কাছে এই প্রবন্ধের গুরুত্ব অপরিসীম; এর প্রভাবও পড়েছে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের ওপর। সে তালিকায় মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং প্রমুখ রয়েছেন।
আধুনিকতা বেশ দুরূহ ও জটিল একটি শব্দ, কিন্তু এই আলোচনার সুবিধার্থে আধুনিকতাকে আমরা কান্টের জনপরিসরে যুক্তি প্রয়োগের ধারণাতেই সীমাবদ্ধ রাখছি। এখন একবার যখন আপনি আধুনিকতার ছাঁচে গড়ে উঠলেন, তখন প্রাক-আধুনিক সম্পর্ক ও ধারণাসমূহের উপর ভিত্তি করে একটি জনজীবন বা নাগরিক জীবন নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। ভারতে জাতপাতের ভিত্তিতে যেই জুলুম তার উদাহরণ দেয়া যায়।
আমরা তো আশা করতেই পারি, টাকা পাচার করা ছাড়া জীবনকে অর্থবহ করার আরো পন্থা যে আছে, বাংলাদেশের শাসকশ্রেণির অন্তত একাংশ দ্রুত তা উপলব্ধি করতে শিখবে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যকর সংগঠনে ক্রমশ রূপায়িত করার ধারাবাহিক উদ্যোগ ও উদ্যমে শামিল হবে। দুনিয়াব্যাপি যান্ত্রিক-প্রাযুক্তিক উন্নতির কল্যাণে সমস্ত মানুষের ভালো জীবনযাপনের যে সম্ভাবনা আজ হাতে মুঠোয়, তাকে মানুষের অধিকার হিসাবে ভাবতে-বুঝতে শিখবে। তাতে অহিদদের পায়ের সুরত সামষ্টিকভাবেই পাল্টে যাবে; আর সেই মসৃণ-সুন্দর পায়ে প্রতিফলিত হবে সুন্দর বাংলাদেশের মুখ।
পরিবেশের প্রতি বিনীত মনোভাব ছাড়া এই গোলমেলে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।