সম্প্রদায় ও সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে নজরুলের বোঝাপড়া এবং বাংলাদেশের সম্প্রদায়-সংকট

নিজের জীবন ও সাহিত্যে নজরুল অসাম্প্রদায়িক চর্চাকে সুউচ্চ মহিমা দিতে পারলেও তাঁর এ-সম্পর্কিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ খুব তাৎপর্যপূর্ণ হয়নি। তাঁর হিন্দু-মুসলমান মিলন-আকাঙ্ক্ষা ছিল জাতীয়তাবাদী ঘরানার, যেখানে জাতি বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে হিন্দু-মুসলমান যৌথ তৎপরতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। ফলে এ যৌথতা মুখ্যত তাঁর শুভকামনা মাত্র। সম্প্রদায় ও সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে তিনি কোনো কাঠামোগত বিচার-বিশ্লেষণ করেননি।

ইরানের বর্তমান আন্দোলন আগেকার আন্দোলনগুলো থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়

চারদশকের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ, নারীদের প্রতি বৈষম্য— এবং হঠাৎ করেই বাইশ বছর বয়সী একজন কুর্দি নারীর নিথর দেহ হয়ে উঠেছে জুলুমের এই সকল স্তরের প্রতীক।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রাষ্ট্র ও সরকার গঠন বিষয়ক নির্বাচন– একটি প্রাথমিক আলোচনা

বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অপরাপর রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো বহাল আছে। তথাপি এখানে নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা একব্যক্তিতে ন্যস্ত। এই গোড়ার গণ্ডল ঠিক না করে বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বর্তমান প্রবন্ধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রয়ন প্রক্রিয়ার অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের কতগুলো প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

উপসংহারে বাংলাদেশ যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়াবহ সংকট মোকাবিলা করছে তাতে এসব ফ্যাক্টর অবদান রাখলেও, আমি এটা বলবো না যে, এক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণ নেই। এমনও বোঝাচ্ছি না যে, তা পারস্পরিকভাবে এক্সক্লুসিভ। এর পরিবর্তে, এই ক্ষেত্রগুলো অন্তর্নিহিতভাবে ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন নীতি এবং আদর্শের সঙ্গে যুক্ত। তাই, বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট, যা আইএমএফের ‘অ্যারাইভালকে সামনে রেখে, তা শুধু মহামারি এবং ইউক্রেন সংকটের ফলে হয়নি।

ফৌজদারি মানহানি থেকে সাইবার মানহানি: স্বাধীন বাংলাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক চর্চার আদ্যপান্ত

অবশ্যই মানহানির কবল থেকে মানুষের মর্যাদাকে রক্ষা করার বিধান থাকতে হবে। মানহানির বিফৌজদারিকরণের মানে এই নয় যে মানহানিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে। এর অর্থ হল মানহানির মামলায় কেবল দেওয়ানি দায় থাকবে।

বন্যা নিয়ে আলাপচারিতায় ইতিহাসের জানাবোঝার দরকার কী!

আমি মনে করি, আমাদের দাপুটে নদী-পানি-বন্যা নিয়ে ভাবনাচিন্তায় বর্তমান সমস্যা সমাধান করে ভবিষ্যত ‍উন্নয়ন ও কল্যান নিশ্চিত করাটাই কেন্দ্রীয় প্রবণতা। আপনার বিদ্রুপ-অবজ্ঞা-লঘুকরণ-ঠাট্টা-গালাগালি এই কেন্দ্রীয় প্রবণতারই প্রকাশমাত্র। কিন্তু আমি আপনার এই প্রকাশকে অবজ্ঞা-ঠাট্টা-খারিজ করতে আগ্রহী না। আমার আগ্রহ ও উদ্দেশ্য এই দাপুটে চিন্তা ও তৎপরতাকে প্রশ্ন করা। এই প্রবল জানাবোঝার আর কাজ করার ঐতিহ্য কেন ও কীভাবে তৈরি হলো তা খোঁজা। এই ঐতিহ্যের সমস্যাগুলো কী কী পারে তার একটা প্রস্তাবনা পেশ করার চেষ্টা করা।

বদরুদ্দীন উমরের বিদ্যাসাগর

তবে নিঃসন্দেহে বদরুদ্দীন উমর আরো আলোচিত হতে পারতেন। তিনটি গুণের সমাবেশ আছে তাঁর লেখালেখি ও কর্মতৎপরতায়। এক. তিনি সরাসরি পার্টি-করা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব; দুই. গত প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি তুমুল সক্রিয় বুদ্ধিজীবী; তিন. একাডেমিক বা গবেষণামূলক কেতায় উৎপাদিত তাঁর বেশ কয়েকটি সন্দর্ভ প্রকাশিত হয়েছে। এ তিন গুণের একত্র-সমাবেশ বাংলাদেশে বেশ বিরল ঘটনা। কাজেই বদরুদ্দীন উমর টেক্সট-রিডিংয়ের জন্য সবসময়েই একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

গণতন্ত্র ‘নিখোঁজ’, নাকি আদৌ ছিল না? অথবা ‘আমি জানি না’

সহুল আহমদ যে কোনো ঐতিহাসিক কালপর্বের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার হদিস আন্দোলনকারী দল/গোষ্ঠীসমূহের লিফলেট, ম্যানিফেস্টো, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদিতে পাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে প্রায়শই আন্দোলনের অভিমুখ, মূল...

‘তত্ত্ব করা’র মানে সবার আগে আমাদের নিজেদের ইতিহাসকে তত্ত্বের দিক থেকে বোঝা।। আদিত্য নিগম

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: সারোয়ার তুষার দিল্লীর প্রথিতযশা বিদ্যায়তনিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ (CSDS)-এর ফেলো এবং ভারতীয় বাঙালি চিন্তক আদিত্য নিগমের কাজ সম্পর্কে...

ধরিত্রী আমাদের পানে ফিরে তাকায় না… : দীপেশ চক্রবর্তী

পৃথিবীর কাছে ও অন্য প্রাণীর কাছে মানুষের যে কী এবং কত পরিমাণে ঋণ, মানুষ যেন ভেবেছিল তা সম্পূর্ণ ভুলে মেরে দিয়েও নিজের ক্ষমতা, সুখস্বাচ্ছন্দ্য আর মুনাফা অনির্দিষ্ট ভাবে বাড়িয়ে চলবে। এই সহজ কথাটাও মনে থাকে না, যে অক্সিজেন ব্যতীত আমরা বাঁচতামই না, তাও বাতাসকে জোগান দেয় নানান ‘মনুষ্যেতর’ প্রাণী, এবং এই পৃথিবী গ্রহটির নানান প্রক্রিয়া। এই ভুলে-যাওয়াটার প্রথম শুরু ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী দিনগুলোতে, ধনতান্ত্রিক দুনিয়ার সূচনায়। তার পর সেই পশ্চিম-প্রদর্শিত পথে অন্যান্য দেশের নেতারাও হেঁটেছেন।