হাসনাত কাইয়ূম পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি বাংলাদেশকেই প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়েছে। সিএএ কার্যকর করার অঙ্গীকারকেও তারা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে নৃশংসভাবে...
আসলে এভাবে পরিবর্তন আসেনা। সব মানুষের আলাদা আলাদা কাজ রয়েছে। শিক্ষক এবং নৈরাজ্যবাদী, যোগাযোগকারী বা আন্দোলনকারী, উষ্কানী দাতা এবং শান্তির অগ্রদূত, যিনি খটোমটো একাডেমিক লেখা লিখছেন, আর যে অনুবাদক সেটা সহজ করে সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, যে মানুষগুলো ঘটনার বাইরে থেকে তদবির করছে, আর যাদের দাঙ্গা পুলিশ টেনে হিঁচড়ে হাজতে পুরছে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পারভেজ আলম ফরাসি দার্শনিক জিল দ্যলুজের একটা বিখ্যাত লেখা আছে “সোসাইটি অফ কন্ট্রোল নামে” (বাংলা অনুবাদ)। মিশেল ফুকো বর্ণিত ডিসিপ্লিনারি সোসাইটি বা শৃঙ্খলার সমাজের ধারণা...
যে প্রশ্নটি এরা কেউ তুলছেন না সেটা হচ্ছে ভিডিও ডকুমেন্টটাতে সুনির্দিষ্ট যে তথ্যগুলো সামনে আনা হয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? বিশিষ্টজন হিসেবে যে কাজটি তার করতে পারতেন, কিন্তু করলেন না, সেটা হচ্ছে বাস্তবতার নিরিখে ডকুমেন্টটির রাজনৈতিক পর্যালোচনা।
এজন্য, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাষ্ট্রের এই ক্ষমতা-বিন্যাসে চেক এন্ড ব্যালেন্স আনা যাচ্ছে, সাংবিধানিক একচেটিয়া ক্ষমতার অবসান ঘটানো না যাচ্ছে; যিনিই প্রধানমন্ত্রী, তিনিই আইনসভার প্রধান, তিনিই সরকারি দলেরও প্রধান এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যাচ্ছে, আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সেপারেশন ও পরস্পরের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে ;
রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই কেবল সাধারণ মানুষকে লড়াকু সৈনিকে বদলে দিতে পারে। ঊনসত্তরের বাংলাদেশ সেই সোনালি সময় উদযাপন করেছে। চেনা মানুষগুলো অচেনা হয়ে সম্ভবপর করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মুহূর্ত। কিশোর শহিদ মতিউর সেই প্রক্রিয়ারই ফসল, আবার একই সাথে সে প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান নির্মাতা।
তদপুরি ফুকোর মতে, আধুনিকতার শুরুর দিকে কুষ্ঠ মডেল প্লেগের ভয় থেকে উদ্ভুত ক্ষমতার নতুন মডেল দ্বারা বাতিল হয়েছে। ফুকো তাঁর এই মডেল বিস্তৃত করেন তাঁর ১৯৭৫ সালের Discipline and Punish: The Birth of the Prison বইতে।সেখানে তিনি যুক্তি দেন, সতের শতক থেকে ক্ষমতার নতুন এক রেজিম হাজির হয়: ডিসপ্লিনারি পাওয়ার। যারা স্বাভাবিক নয় [ডেভিয়েন্ট] তাদেরকে এখন আর সহজভাবে বর্জন করা হলো না, বা আটকেও রাখা হলো না। বরঞ্চ এর বদলে শিশু, সৈনিক, কর্মী, কয়েদী, গরীবসহ ‘সবাই’ কঠোর শৃঙ্খলার শিকার হলেন। শৃঙ্খলার কঠোর কাজের অনুশীলন হিসাবে এটা এভাবে তাদের শরীরকে ‘উৎপাদনক্ষম করে তোলে’।
সব মিলিয়ে আমি মনে করি, এই পর্বটা সংজ্ঞায়িত ভাবাদর্শ ও রাজনীতির অনেক ফ্রন্টের একটি বিস্তৃত গতিশীলতা দিয়ে। আপনি এই বিস্তৃত গতিশীলতাকে কেবল একটি পথেই ব্যাখ্যা করতে পারেন। সেটি হল কর্পোরেট পুঁজিপতি শ্রেণির উচ্চ মাত্রার সংহতি বুঝতে পারা। পুঁজি তার আর্থিক সম্পদ ও প্রভাব পুনরুদ্ধারের বেপরোয়া চেষ্টায় তার শক্তিকে পুনর্গঠিত করেছে। ১৯৬০ দশকের শেষ থেকে ১৯৭০ দশকে এই শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।
এই চিন্তা রাজনীতিবিদদের এরকম আচরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি যেন তাঁরা বিজ্ঞানের নিছক কর্তব্যনিষ্ঠ অধীনস্ত৷ আমার মতে, যারা আক্রান্ত না তাঁদের আধা-সঙ্গনিরোধে রাখার নীতি গ্রহণ— যে নীতি খোয়ানো চাকুরি, বন্ধ হওয়া ব্যাবসা-বানিজ্য, হতাশাগ্রস্ত লোক এবং ঋণ জর্জরিত সরকারের ক্ষেত্রে বিপর্যয়কর পরিণামের পিছনে থাকাটা সঙ্গত— একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সেইভাবেই তা আলোচনার দাবি রাখে। কিন্তু এই মুহূর্তে বিজ্ঞানের প্রশস্ত উর্দির সব রাজনীতিবিদকে এই বিতর্ক থেকে আশ্রয় দিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যমান নৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও কেউ আওয়াজ পর্যন্ত তুলে না। সেসব সিদ্ধান্তের ভার বিজ্ঞানের উপর।
মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান; ভাষান্তর: ডালিয়া চাকমা সম্পাদকীয় মন্তব্য: মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের এই প্রবন্ধটি ২০১৫ সালের ১২ জুনে নিউ এজ পত্রিকায় Securitisation of tourism in CHT...