রাজনৈতিক দুর্নীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে তাত্ত্বিকরা ধাঁধায় আছেন। একজন তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও দুর্নীতির দ্বৈত অবস্থান দ্বৈধতার কথা বলছেন। (এম.খান: ২০১৭) উদাহরন হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ ও পরে দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কথা বলা যায়। সম্ভবত গোটা বিশ^ বাজারে এতো অধিক অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের উন্নয়ন সাধিত হয়নি।
বাংলাদেশে নিওলিবারেলিজমের প্রধান দুই এজেন্ট হচ্ছে অর্থনীতির ক্ষেত্রে রপ্তানি খাত আর সামাজিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণ। রাজনীতির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার বিরোধী কোন রাজনৈতিক শক্তি সাম্রাজ্যের সমর্থন পাবে না। মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে নিওলিবারেল বিশ্বের কেন্দ্রের কোন রাষ্ট্র নয়, প্রান্তিক রাষ্ট্র। বৈশ্বিক নিওলিবারেল অর্থনীতিতে তার ভূমিকা মহাজনের নয়, মক্কেলের। ফলে কি রাজনীতি কি অর্থনীতি, সবখানেই তার নব্য-উদারীকরনের প্রকৃতি আর ফলাফলের একটা ভিন্ন চেহারা আছে।
মানুষকে স্বার্থপর ভাবার প্রবণতা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে প্রবল। প্রাচীন গ্রীক থেকে শুরু করে, গোঁড়া খ্রিস্টান, এমনকি এনলাইটমেন্টের দার্শনিকদের মাঝেও এটি দেখা যায়। অবশ্য খুব অল্প হলেও সেখানেও কিছু ব্যতিক্রম ছিল। ১৯ শতকের এনার্কিস্ট পিটার ত্রপোৎকিনের কথাই ধরুণ, তিনি মানুষের ভালোত্বে বিশ্বসা করতেন, এবং অবশ্যই এধরণের মানুষকে তাদের এমন ভয়ংকর চিন্তার জন্য নিগৃহীত হতে হত কেননা উপরতলার মানুষেরা বুঝতে পেরেছিলেন মানবপ্রকৃতির এমন আশাবাদী চরিত্রের ফলাফল কি হতে পারে।
ধর্ষণকারী বা যৌন সন্ত্রাসীর ক্ষমতায়ণ নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে ধারণাগতভাবে ধর্ষণ কী সেটা বোঝা প্রয়োজন। এরপর একজন পুরুষ কখন, কেন ও কোন নিয়ামকের কারণে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষক হয়ে ওঠে, সেই আলোচনাটি সামনে আনা প্রয়োজন।
পিতৃতন্ত্র নামের এই কারাগারটা ভেঙে ফেলা দরকার। তাতে নারীরা যেমন মুক্তি পাবে বন্দিত্ব থেকে, পুরুষরাও তেমনি মুক্তি পাবে রক্ষা করার দায় ও ভার থেকে। নারীপুরুষের সম্পর্কটা সত্যিকার অর্থে মানবিক হয়ে উঠবে, যার ভিত্তি হবে বন্ধুত্ব প্রেম পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যা হবে স্বাধীন।
For people in Bangladesh, particularly for the wellbeing of women and children, accumulation of unchecked power and approval of hegemonic masculinity must be stopped right now.
আমাদের শিল্প দরকার। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান দরকারও; সেটা অবশ্যই মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়তে- অসহায়ত্ব চিরস্থায়ী করতে নয়। জিডিপিতে যার যার অবদান যুক্ত হচ্ছে তাদের নিজেদের কথাটুকুও শোনা দরকার।
এই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাংলায় দরিদ্র মুসলমান ও নমশূদ্ররা এতদিনকার সমধর্মী অর্থনৈতিক পাটাতনের পাশাপাশি ঐক্যের একটা নতুন রাজনৈতিক পাটাতনও নির্মাণ করতে সমর্থ হয়েছিল। ৪-৫টি জেলায় প্রায় আট লাখ দরিদ্র নমশূদ্র এবং মুসলমান চাষিদের ঐ ঐক্য চেতনার মৌলিক ভিত্তি ছিল কাস্ট সিস্টেমের বিরোধিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রবল আর্তি।