কিন্তু আজ যখন নির্যাতিত মানুষজনকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে আমাদের, তখন সেই আমরাই নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দ্বিধা করছি না। আমরা যেই মানবিক চেতনায় বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে স্বাগত জানিয়ে অনুপম নজির সৃষ্টি করেছিলাম, আসুন আমরা সেই চেতনাকে বিনষ্ট না করি।
হাবিবুর রহমান সামন্ততন্ত্রকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যেমন সামন্ততন্ত্র মূলত ভূমিকেন্দ্রিক এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পরিবর্তে স্থানীয়...
জাতিত্ববোধের ইতিহাসে একুশকে ঘিরে আমাদের অনুধাবন যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিকতায় অভিষিক্ত হওয়ার পরে, একুশের উত্তরাধিকারী জাতিটিরই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব বর্তায় নিজের জাতিরাষ্ট্রের পরিসরে তাবৎ সাংস্কৃতিক জাতিস্বত্ত্বার ভাষা ও জাতিসত্ত্বাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করবার। একুশের চেতনার এমনতর উপলব্ধি উপযোগবাদীতা হলেও ক্ষতি কিছু নেই, কারণ ভুবনগাঁয়ের বিশ্বমানবের আবির্ভাবের লক্ষ্যে যে মানবিক রাজনীতি, তাকে সমর্থন যোগানোটা এই উপলব্ধির ইপ্সিত উপযোগই বটে।
মদিনার লেখকের এই উপলব্ধিগুলো মূল্যবান; এবং আমরা এই উপলব্ধিগুলো বিচার করে দেখতে আগ্রহী। কারণ, এই উপলব্ধিগুলোর বিচার জর্জো আগামবেন কিংবা পারভেজ আলমকে ছাপিয়ে জীবন ও রাজনীতির এক জটিল অথচ বাস্তব দুনিয়া আমাদের সামনে মেলে ধরে, যেখানে আমরা প্রত্যেক 'আধুনিক মানুষ' নিজেকে দেখতে পারব।। বর্তমান প্রবন্ধ সেই দুনিয়ারই বিচার।
স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে সংবিধানের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে তা মূলত বাহাত্তরের সংবিধান। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইনী ডক্যুমেণ্ট হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের তার সংবিধান বুঝে নেওয়ার অধিকার ও প্রয়োজন রয়েছে। এই সংবিধানের আওতায় মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব কিনা, বা সম্ভব হলে তা কিভাবে—এই লেখায় তা আমরা দেখার-বোঝার চেষ্টা করবো।
মনুষ্য–স্বাধীনতার প্রকৃতিপ্রদত্ত স্পৃহা যার অনুভূতি ও চিন্তনে স্বভাবত ক্রিয়াশীল নয়, তার জন্য ‘নৈরাজ্যবাদ’ ইতিহাস বইয়ের একটা নাম মাত্র। এই ধরনের মানুষদের একটা বিরাট অংশ নৈরাজ্যের নাম শুনলে বিরক্তিতে বমি করার উদ্যোগ নেন, আরেকটা বিরাট অংশ নৈরাজ্যের নাম শুনলেই আনন্দে গদগদ হয়ে ওঠেন যেন সারাক্ষণ ‘নৈরাজ্য’ ‘নৈরাজ্য’ করলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর স্বাধীনতা ও সাম্যের বৃষ্টিধারা নেমে আসবে অঝোরে।
আমাদের বাংলায় এ অঞ্চলের সাথে মিল রেখে নগরসমস্যার সমাধানগুলি আমাদেরকেই বের করে আনতে হবে। একইভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন যে নগরসমস্যা গ্রামীণ অঞ্চলের সমস্যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শহরকে আলাভাবে চিন্তা না করে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে।
সত্য উচ্চারণের জন্য বিনা বিচারে জেলে নিক্ষিপ্ত হওয়ায় মতো গৌরব আর কোথায়? জয় হোক আমার দিদার ভাইয়ের। দিদার ভাইদের কারাগারই হয়ে উঠুক আমাদের সর্বকলাকেন্দ্র।
আসলে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায়, আমাদের শাসন ব্যবস্থা বুঝার জন্য নতুন ধারনা প্রচলন জরুরী। সেই ধারনাকে আমি নাম দিতে চাই – ব্যদুর্নিবেশ। এই ধারনাটিকে এভাবে প্রকাশ করা যায় যে, এটা হলো উপনিবেশোত্তরকালে ব্যক্তিস্বার্থে সব ধরনের দুর্নীতি আর অনাচারের জবাবদিহিবিহীন উপনিবেশিক ব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতির চর্চা।
মাদকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সফল না হলেও রাষ্ট্র - সে স্বৈরাচারী হোক, বা গণতন্ত্রী হোক - একে ব্যবহার করে সবসময়। কারণটা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টও বলেছেন। চমস্কিও একে গরীবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলেছেন, এবং এও বলেছেন যে এই ‘যুদ্ধ’ আসলে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার হাতিয়ার, মানে ‘প্রোপাগান্ডা’র জন্যে খুবই দরকারি।