কোভিড-১৯: বদলে দিচ্ছে বিশ্ব?

যখন আমরা এ সংকট উতরে যাব, তখন আমাদেরকে হয় খুব ক্ষমতা সম্পন্ন কর্তৃত্ববাদী হিংস্র রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বেছে নিতে হবে অথবা সমাজের যৌক্তিক পরিবর্তন ঘটবে, মানবিক এক দয়াবান সমাজ তৈরি হবে যেখানে ব্যক্তিগত লাভের তুলনায় সামষ্টিক মানুষের প্রয়োজন গুরুত্ব পাবে

ধান-রক্ষা যখন দেশ-রক্ষা: কিছু প্রস্তাব

কিন্তু কৃষক ফসল কাটবে কীভাবে? ফসল রাখবে কোথায়? বিক্রি করবে কীভাবে? এই ধান-চাল নিয়ে দেশের অন্যরা কী ভাবছে? সিদ্ধান্তগুলো এ মাসেই নিতে হবে। নেয়া জরুরি।

কোয়ারেন্টাইন স্টেট

করোনা ভাইরাসই কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের সামনে হাজির হওয়া একমাত্র বিপদ নয়। বরং করোনাকে পুঁজি করে যে রাষ্ট্রশক্তি সমস্ত রকমের স্বাধীনতা-সৃজনশীলতা-সংহতির পথকে রুদ্ধ করতে চায়, সেই রাষ্ট্রশক্তি কিন্তু করোনার চাইতেও অধিকতর বিপদের। এরকম নিরঙ্কুশ গণবিরোধী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক সংহতির কোন বিকল্প নাই।

গুজব বন্ধের নামে গুজব তৈরি

যখন সরকারী ভাবে তথ্য গোপনের চেষ্টা হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই আরো আতংক তৈরি হয়, মানুষ তখন উল্টো পাল্টা আরো অনেক জিনিস বিশ্বাস করা শুরু করে দেয়। কেউ অতি সতর্ক হয়, কেউ একেবারে পাত্তাই দেয় না। কারণ কোন তথ্য বিশ্বাস করবে আর কোনটা করবে না এই নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই অবস্থায় করোনার মতন ভাইরাস আরো দ্রুত এবং মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

করোনা মহামারী মোকাবেলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশী শিক্ষক-শিক্ষার্থী-গবেষকদের বিবৃতি

এমতাবস্থায় বাংলাদেশে দল-মত নির্বিশেষে সকলে একত্রিত হয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতাকে অনুধাবন করে তা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। এই মহামারীকে ঠেকানোর জন্য আমাদের প্রত্যাশা যে সরকার নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

নাওমি ক্লেইনের বয়ানে করোনা , দুর্যোগ পুঁজিবাদ ও শক ডক্ট্রিন

গোটা পৃথিবী করোনা ভাইরাসের থাবায় পর্যুদস্ত। ইতোমধ্যেই অসংখ্য মানুষ নিহত ও আরো বেশি সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। থমকে গেছে গোটা পৃথিবী। সমস্ত রকমের সামাজিক-রাজনৈতিক তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। ক্লেইন এই সাক্ষাতকারে দাবি করছেন, তাঁর দুই দশকের গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আঁচ করতে পারছেন, এ রকম একটা নজিরবিহীন সংকট ও সংকট-পরবর্তী সময়কে কীভাবে বিশ্বের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এলিটরা তাদের ফায়দা লোটার কাজে লাগাতে পারে।

গবেষক নির্যাতন করলে আরো বেশি মানুষ মরবে

গবেষকদের কথা না শোনায় অনেক লাশ সামলাতে হবে দেশকে। গবেষক নির্যাতন শুরু হলে আরো বহুগুণ বেশি লাশ গুনতে হবে। ‘কিলিং দ্যা মেসেঞ্জার’ বা বার্তাবাহককে হত্যা নিজের মৃত্যুই নিশ্চিত করে। কারণ, মেসেঞ্জার বিপদে ফেলতে আসে না, খবর নিয়ে আসে যে বিপদ আসছে। যাতে করে বিপদকে মোকাবেলা করা যায়।

করোনা, সিস্টেমের গলদ এবং ব্যক্তির উদ্বেগ

আমরা যারা প্রগতিশীল তারা বরাবরের মতো 'গুজব' নিয়ে আতঙ্কে ভুগতেছি। কিন্তু কোন পরিবেশে গুজব হাওয়ার বেগে রটে, কোন পরিবেশ কখন গুজব-উর্বর হয়ে উঠে সে বিষয়ে তারা আলাপ আগে বাড়ান না।

করোনা মহামারী: ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রের, ডিহিউম্যানাইজ করে মোকাবিলা সম্ভব না

আমি জানি, আমার এই লেখার দুপয়সা দাম নাই। কিন্তু একথাগুলো বলতে হলো, কারণ অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে মানুষকে গালাগাল করছেন ঠিক সেইভাবে যেভাবে ব্রিটিশরা আমাদের করতো, যেভাবে এখনো পশ্চিমরা, আমাদের করে। উদ্বিগ্ন হয়ে একটা ছোট্ট ব্যাপার যাতে না ভুলে যান, আপনি আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে যেভাবে মানুষকে ডিহিউম্যানাইজ করছেন, অন্যজনও তার দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাকে ডিহিউম্যানাইজ করছে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায় মানুষের ওপর চাপিয়ে মানুষকে ডিহিউম্যানাইজ করাটা অন্তত বন্ধ করি! এই দুর্যোগ আমাদের সবার, ডিহিউম্যানাইজ করে এটা মোকাবিলা সম্ভব না।