অনলাইন ক্লাস কার স্বার্থে?

  • নিশাত জাহান নিশা

করোনাকালীন এই সময়ে অন্যসব সেক্টরের মত শিক্ষাখাতও অনিশ্চয়তা ও সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে অনির্দিষ্টকালের শিক্ষাবিরতি থেকে বাঁচাতে বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশও অনলাইন ক্লাসকে আপদকালীন (একমাত্র!) সমাধান হিসেবে দেখছে এবং নীতিনির্ধারকেরা তাকেই আঁকড়ে ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর তা চাপিয়ে দিয়েছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে নিজের ওপরেও আসা এই খড়গে হাঁসফাঁস করতে করতে শুরু থেকেই ভাবছিলাম,  অনলাইন ক্লাস নিয়ে প্রথম প্রশ্নটা তুলবে বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। কিন্তু প্রায় আড়াই মাসের এই মানসিক পীড়নে গুটিকয়েকজন ছাড়া শিক্ষকদের জোড় গলায় কথা বলতে দেখিনি। যদিও গত কিছুদিনে অনলাইন ক্লাসের সংকটগুলো নিয়ে কথা বলতে দেখেছি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, কিন্তু আমাদের শিক্ষকেরা এক্ষেত্রে নীরব।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ (৫০% এর বেশি নিঃসন্দেহে) নিম্নমধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে, এ তথ্যটা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের আমলারা যদি নাও জানেন ( বা জেনে অস্বীকার করেন), শিক্ষকদের তো অজানা থাকার কথা নয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি বড় অংশের যে ল্যাপটপ নেই (অনেকের ডেস্কটপ আছে যা হল বা মেসগুলোয় আছে, বাড়িতে ডেস্কটপ আছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা নগণ্য), এমনকি অনেকের একটি ভালো স্মার্ট ফোনও নেই, সেই তথ্যগুলো কি শিক্ষকদের অজানা? শিক্ষকেরা কি জানেন না ওয়াইফাই সংযোগ আছে এমন পরিবার এখনো হাতে গোনা যায়? এক একটি অনলাইন ক্লাস করতে ঠিক কত মেগাবাইট ইন্টারনেট লাগে সে তথ্যও বোধ করি তাদের অজানা নয়।  কদাচিৎও যদি কোনো শিক্ষক গ্রামে যান কিংবা জেলা শহরেও, তাহলেও তার জানা থাকার কথা গ্রাম, উপজেলা কিংবা খোদ জেলাশহরগুলোয় নেটওয়ার্কের কি বেহাল দশা। এছাড়া এক একটি ইন্টারনেট প্যাকেজ কতটুকু চড়া দামে কিনতে হয়, তাও বোধ করি তাদের অজানা নয়। তারা হয়ত এতটুকুও জানেন, অনলাইনে ক্লাস করতে হলে একটি নিরিবিলি পরিবেশ দরকার হয় এবং সত্য হলো অনেক শিক্ষার্থীর নিজের আলাদা কোনো ঘর নেই, পরিবারের সদস্যদের সাথে তারা ঘর ভাগাভাগি করে থাকে। এছাড়া আড়াই মাসের এই সংকটকালীন সময়ে অগণিত পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমব্যক্তির আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, আর্থিক টানাপোড়নে আছে; এ তথ্য বোধকরি কমবেশি সবাই অনুমান করতে পারে। শিক্ষকেরা হয়ত এও জানেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতখরচের টাকাটা নিজেরাই জোগাড় করে, নিতান্ত দরকার না হলে তারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতে চায় না। এছাড়া একটা বড় অংশের শিক্ষার্থী নিজেদের পড়ালেখার খরচ নিজেরা জোগাড় করে এবং পরিবারের জন্যও টাকা পাঠায়। তো এই আড়াই মাসে তাদের ঐ উপার্জনের পথ কিন্তু সম্পূর্ণ বন্ধ। পীড়নের বিষয় এই যে, অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না সেইসব শিক্ষার্থী, এই সংকটে যারা অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে জীবিকার ব্যবস্থা করা যাদের সবচেয়ে বেশি দরকার নিজের ও পরিবারের টিকে থাকার জন্য, এই অনলাইন ক্লাস কিন্তু তাদের-ই শিক্ষাজীবন শেষ করার পথে প্রতিবন্ধক, এসব শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার হার বাড়ানোর জন্য অনলাইন ক্লাস একটি মোক্ষম হাতিয়ার। আমার বিশ্বাস, এ সমস্ত কথা নীতিনির্ধারকেরা এবং আমাদের শিক্ষকেরা খুব ভালো করেই জানেন। তবুও প্রতিটি স্বায়ত্তশাসিত(!) বিশ্ববিদ্যালয় এই অনলাইন ক্লাসকে বেছে নিয়েছে এবং তা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। সামাজিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখতে এবং শিক্ষার্থীদেরকে অনির্দিষ্টকালের শিক্ষা বিরতি থেকে বাঁচাতে। যদিও এই সংকটকালে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার জায়গা অনেক। কিন্তু তবুও প্রশাসনের নেওয়া অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত কেনো বহাল থাকছে? কেনই বা শিক্ষার্থীরা পীড়নের স্বীকার হচ্ছে?

প্রথমত, যদিও অনলাইন ক্লাস শিক্ষাখাতকে এই সংকট থেকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় নয়, তবুও প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে দেয়।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নয়া উদারনৈতিক নীতির আলোকে গড়ে ওঠা। নয়া উদারনৈতিক অর্থনীতিতে কর্মীদেরকে পণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ধরেই নেওয়া হয়, একজন কর্মী নিয়োগের আগেই দক্ষ ও শ্রম-বাজারের উপযুক্ত হবে। এর ফলে, কাজের প্রশিক্ষণের ব্যয় ও ভার দুই- কর্মীর ওপর বর্তায়, নিয়োগকারীদের ওপর নয়। নিয়োগের আগেই কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া এর খুব ভালো উদাহরণ। স্বাভাবিকভাবেই, শিক্ষাখাতও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শিক্ষকতায় নিবেদিতদের চেয়ে, যারা সিভিতে নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য প্রমাণ করতে পারে, তাদের চাকরিতে নিযুক্তির হার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে ঠিক এই নীতিতে, ফ্যাকাল্টিদের আগেই থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ ও যোগ্য ভাবে, তার প্রমাণ হলো কোনোপ্রকার প্রশিক্ষণ, সহায়তা, প্রস্তুতির সময় না দিয়েই তাদেরকে অনলাইন ক্লাসের জন্য চাপ দেওয়া।

ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে একটি কোর্সের প্রস্তুতি নিতে তাদের ১২-১৮ মাস সময় লাগে এবং কমপক্ষে ৩জন স্টাফ দরকার যাদের মাঝে ১ জন “অনলাইন লার্নিং কনসালটেন্ট”। বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষকদের কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারটা সামান্য নয় যেহেতু এর ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে, শিক্ষার্থীদের ঐ কোর্স সম্পর্কে কতটুকু জানার আগ্রহ তৈরি হবে, তারা কতটুকু ভালোভাবে কোর্সটা শিখতে পারবে এবং গবেষণার কাজে লাগাতে পারবে। তো বলাই যায়, অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে কোর্সের প্রস্তুতি আরো গুরুত্বপূর্ণ। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আমাদের শিক্ষকদের জন্য কি ন্যূনতম কোনো ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে? অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মত প্রযুক্তিতে তারা অভ্যস্ত কি না তা কি জানা হয়েছিলো?

দ্বিতীয়ত, নয়া উদারনৈতিক নীতিতে, নাগরিকদের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্যকে অস্বীকার করা হয়। ধরে নেওয়া হয়, সমস্ত ব্যাপারে তারা সকলে একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, কাজ করবে, যেটা ঐতিহাসিকভাবে নাগরিকদের সাথে হয়ে আসা বৈষম্যকে অস্বীকার করে। একইভাবে নয়া উদারনৈতিক নীতির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধরে নেয়, সব ফ্যাকাল্টিরা সমান সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত, সমান দক্ষ ও যোগ্য এবং একইভাবে এই অনলাইন ক্লাসে সম্মত হবে।

তৃতীয়ত, নয়া উদারনৈতিক গণতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে প্রতিযোগিতামূলক ধরা হয় যেখানে কোনো সমষ্টিগত সামাজিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই। বিচ্ছিন্নতাবাদী এই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দায়কে ব্যক্তির ব্যর্থতা বলে চাপিয়ে দেয় যার একটা ভালো উদাহরণ হলো ব্যক্তির দারিদ্র্যতার দায় তার ইচ্ছার ও চেষ্টার অভাব বলে প্রচার করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেহেতু এই নীতিতে চলে, তাই দেখা যায় ফ্যাকাল্টিদের কোনো সমন্বিত লক্ষ্য নেই, সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই, নেই জ্ঞান উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা। সমন্বিত লক্ষ্যের বদলে ফ্যাকাল্টিরা তাই একে অন্যকে প্রতিযোগী মনে করে এবং অন্যদের তোয়াক্কা না করেই নিজেকে যোগ্য ও সৃজনশীল প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে।

চতুর্থত, নয়া উদারনৈতিক নীতিতে, শিক্ষাকে দক্ষতা বাড়ানোর এবং শ্রম-বাজারে নিজের মূল্য বাড়ানোর উপায় বলে ধরে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদেরকে যে শিক্ষার ক্রেতা হিসেবে গণ্য করা হয়, তার প্রমাণ উত্তরোত্তর শিক্ষার ব্যয় বাড়ানো। শিক্ষাকে যেহেতু শিক্ষার্থীদের বিকাশের উপায় বলে বিবেচনা করা হয় না এবং কন্টেন্ট ডেলিভারির মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে, অনলাইন ক্লাস তাই এক্ষেত্রে কন্টেন্ট ডেলিভারির একটা সহজ উপায়।  

একটি ক্লাস শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইন্টার‍্যাকশনের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা পায়। শিক্ষার্থীরা সামাজিক ও মানবিক ব্যাপারগুলোও ক্লাস থেকে শিখতে পারে। শিক্ষকদের প্রশ্ন করা, আর্গুমেন্ট করা, সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া ও চিন্তাধারা থেকে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভিন্নমতের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়, অনলাইন ক্লাসে তা অনেকাংশেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এছাড়া অনলাইন ক্লাস ও রেকর্ডেড ক্লাস নামক অল্টারনেটিভ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভাজন বাড়াবে। কারণ যে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস করবে, যে রেকর্ডিং শুনবে বা যে দুটোই করবে, তাদের সকলের বোঝাপড়া সমান হবে না। খোদ IIT এর শিক্ষকেরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের চেয়ে ট্র্যাডিশনাল ক্লাসকে শিক্ষার্থীদের বোঝার উপযুক্ত মনে করেন যেহেতু এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ইন্টার‍্যাকশন, প্রশ্ন করা, আলাপ করার জায়গা বেশি থাকে। অনলাইন ক্লাসের আরেকটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এখানে যতজন শিক্ষার্থী থাকে তাদের সবার সাথে শিক্ষকের ইন্টার‍্যাকশন হচ্ছে না। অথবা একজন শিক্ষার্থীর অডিও বা ভিডিও মুড অফ করা থাকলে শিক্ষকের কিন্তু বোঝার উপায় থাকছে না শিক্ষার্থীটি আদৌ ক্লাসে আছে কি না এবং তার ক্লাস বুঝতে পারছে কি না। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্যও এটি অস্বস্তিকর।

জুনের ১ তারিখে কেরালার দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন অনলাইন ক্লাস করার উপযুক্ত ডিভাইস নেই বলে। তার দিনমজুর বাবা মেয়েকে অনলাইন ক্লাসের উপযুক্ত ডিভাইস দিতে পারে নি বলে সে অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি। বন্ধুরা জানিয়েছে, সে মেধাবী ছিলো। বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়, সে কী তীব্র মানসিক পীড়নে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে। এ দৃশ্য যদি বাংলাদেশেও দেখতে হয়, তবে কি সেটা অস্বাভাবিক হবে? নাকি ডিভাইস না থাকার, ক্লাস করতে না পারার ব্যর্থতার দায় ঐ শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে, তাকে দুর্বল মানসিকতার মানুষ বলে ঘটা করে প্রচার করা হবে? যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়ে শিক্ষার্থীটিকে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই ব্যবস্থাটিকে প্রশ্ন করা হবে কি?

Photo by Jonas Jacobsson

IIT, MIT, Harvard, Oxford, Water Loo সহ আরও বিখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অনলাইন ক্লাসের ফলে সৃষ্ট সংকটসমূহ এবং এর প্রকৃত অবস্থা। অনলাইন ক্লাস শুনতে মধুর হলেও এর অভিজ্ঞতা খুব মধুর নয় জানিয়েছেন তারা। অনলাইন ক্লাসকে আপদকালীন একমাত্র(!) সমাধান ভাবলে তাতে অন্য সমাধান আশা করা দুরূহ। যদি এই ব্যবস্থা চালু রাখতেই হয়, তবে সব সংকট মাথায় রাখতে হবে বৈকি। এর জন্য প্রস্তুতি দরকার, দরকার সঠিক পরিকল্পনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, শিক্ষার্থীদের কাঠামোগত সহায়তা দেওয়া, সবচেয়ে জরুরি হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার ব্যাপারে তৎপর থাকা, ব্যবস্থা নেওয়া। মোটের ওপর পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য তো বটেই।

বর্তমান সংকটে Zoom বা Streamyeard অনলাইন ক্লাসের জন্য কতটা ভালো প্রযুক্তি সেই আলাপ না করে, শিক্ষা, গবেষণা ও জনস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে বরং প্রশ্ন তোলা দরকার। অনলাইন ক্লাস যে ট্র্যাডিশনাল ক্লাসের বিকল্প নয়, সেই সত্য মেনে নিয়ে যদি প্রশ্ন তোলা হয়, আপদকালীন এই অনলাইন ক্লাস ঠিক কেমন হওয়া দরকার, তাহলেই বোধহয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের এই অযাচিত চাপ থেকে মুক্তি পাবে। শিক্ষার্থী, ফ্যাকাল্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকলের সাথে আলাপ-আলোচনায় এই সংকট মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে।

আমাদের গুরুত্বের তালিকায় ঠিক কি আছে, যেকোনো সংকটে স্পষ্টভাবে তা বোঝা যায়। এই সংকটে শিক্ষাখাত নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনা চিন্তাটা পরিষ্কার হয়ে দেখা দিচ্ছে তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তে। শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, গবেষণা ও জনস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতা প্রধান বিষয় হলে, প্রশাসনকে বুঝতে হবে অনলাইন ক্লাস বিপুল-সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে,  মানসিক পীড়ন করছে, বিপর্যস্ত করছে, শিক্ষকদের গঠনমূলক কাজ এবং সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে। মোটের ওপর এই অনলাইন ক্লাস কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থী কারো জন্যই সুখকর বা কার্যকর কিছু নয়। তবুও যদি এই অনলাইন ক্লাস চালু রাখা হয়, তবে সেটা কার স্বার্থে?

দোহাই:
Honor Brabazon, The academy’s neoliberal response to COVID-19: Why faculty should be wary and how we can push back, Academic Matters,May 29, 2020
Abdul Latheef Naha, Kerala Class X girl ends life allegedly over lack of access to online classes, The Hindu, June 02, 2020
Anurag Mehra, After Weeks Of Online Classes At IIT, Here’s The Truth, NDTV,June 02, 2020

  • লেখক: শিক্ষার্থী, শাবিপ্রবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *