রাষ্ট্র-ভাবনায় তীব্রতম গলদ

  • হেলাল মহিউদ্দীন

এক

“সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে
সহজ কথা যায়না বলা সহজে।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শনটির গভীরতা প্রতি মুহূর্তে টের পাই। রাষ্ট্র-ভাবনা বিষয়ক লেখা লিখতে গিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সহজ ভাষায় লিখব। লেখাগুলো মেদহীন রাখব। তত্ত্বকথা একেবারেই এড়িয়ে যাব। দরকারি কথা সহজ করে বলব। উদাহরণগুলো মাটির কাছাকাছি রাখব যাতে একজন সাধারণ মানুষও ধরতে পারেন কী আলাপ চলছে। যাতে সদ্য হাই স্কুল শুরু করতে যাওয়া ছাত্রটির বা শিশুটিরও পাঠের কষ্ট না হয়। সেও যেন তার প্রাণপ্রিয় দেশটির ভালমন্দ নিয়ে ভুল-শুদ্ধ যা-ই হোক খানিকটা চিন্তার সুযোগ পায়।

কেন এই ভাবনা—নাসিরুদ্দিন হোজ্জা সম্পর্কিত একটি গল্প দিয়ে বুঝার চেষ্টা করা যাক।

একজন জ্ঞানী দার্শনিক হিসেবে একবার হতদরিদ্র হোজ্জার নামডাক চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। সেই সময় হোজ্জার শহরে একজন সম্পদশালী লোক ছিল। লোকটির মনে হল অনেক তো কামালাম। ভোগ করার উত্তরাধিকার তেমন তো নেই। এক কাজ করি হোজ্জার কাছে যাই।

যেই ভাবা সেই কাজ। লোকটি হোজ্জার কাছে গিয়ে বলল—হোজ্জা, আমার অনেক টাকা-পয়সা। তোমার অনেক জ্ঞান। আমার সম্পদের বেশির ভাগই তোমাকে দিয়ে দিব। তোমার গরিবানা মোটেই থাকবে না। শুধু একটি কাজ করো। আমাকে জ্ঞানী বানাও। আমাকে জ্ঞান দাও হোজ্জা।

হোজ্জা একটি পানিভর্তি বড় বাটি নিলেন। বাটিটি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। তাতে আর এক ফোঁটা পানিও ধরবে না। আরেকটি পানিভর্তি জগ নিলেন হোজ্জা। তারপর জগের পানি কানায় কানায় পানিভর্তি বাটিটিতে ঢাললেন। সব পানি উপচে পড়ল বাটির বাইরে।

হোজ্জা বললেল—যাও! জ্ঞান দিয়ে দিলাম।

লোকটি এই অদ্ভুত কুকান্ড দেখে ভারি অবাক হল। কিন্তু কিছু বলল না। মনে মনে ভাবল লোকে ঠিকই বলে। জ্ঞানীরা পাগল-ছাগল ধরনের হয়। বরং পরের সপ্তায় আরেকবার আসি।

ধনি লোকটি পরের সপ্তায় আবার এলো। এবার সে কম বিনয়ী। বেশ শক্ত করেই বলল—আমি আসলেই ভীষণ সিরিয়াস। টাকাপয়সা ধনসম্পদ যা চাইবার চাও। শুধু আমাকে জ্ঞান দাও।

হোজ্জা আগের দিনের মত একই কাণ্ড করলেন। পানিভর্তি বাটিতে পানি ঢাললেন। ঢালা পানিতে জমিন সয়লাব হল। খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললেন—জ্ঞান তো সব দিয়ে দিলাম! যাও, এবার চলে যাও।

ধনি লোকটি খুবই বিরক্ত হল। ভাবল লোকে ঠিকই বলে। দার্শনিকদের ম্যালা ভরংচরং ভাবসাব। এইসব বুজরুকির নামই তাহলে জ্ঞান!

সেদিনের মত সে ফিরে গেল। কিন্তু জেদ চেপে বসল তার মাথায়। আবারো যাবে সে। এবারও একই রকম পাগলামি শুর করলে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে আসবে পাগলটির।

পরের সপ্তায় হোজ্জার কাছে গিয়ে সে কড়া ধমকের সুরে বলল—হোজ্জা, পাগলামি অনেক হয়েছে। আগের দুই দিনের মত সার্কাস দেখাবে না বলে দিচ্ছি। জ্ঞান নিতে এসেছি। আমাকে জ্ঞান দাও।

হোজ্জা আগের দুই দিনের মত একই কাজ করে ক্ষিপ্ত স্বরে বললেন—জ্ঞান দিয়ে দিলাম। যা, দূর হ এখান থেকে।

লোকটির রোখ চেপে গেল। ব্যাখ্যা না নিয়ে সে ফিরবে না। হাতের লাঠি দেখিয়ে বলল—দেখেছো? এটা দিয়ে এক্ষুনি তোমার মাথা পাঠাব। এই পাগলামির অর্থ কি বুঝাও। নইলে, লাঠি……

হোজ্জা বাটিটির পানি অন্য আরেকটি পাত্রে রাখলেন। তারপর পানিশূন্য বাটিতে জগের পানি ঢাললেন। এবার বাটিটি পূর্ণ হল। সেটি দেখিয়ে হোজ্জা বললেন—এরকম আগে বাটি খালি কর বেকুব!  বাটি ভরা থাকলে জ্ঞান কোথায় দিব? যে জ্ঞানই দিই না কেন, সবই তো বাটিতে ঢালা পানির মত গড়িয়ে নিচে পড়ে যাবে! জ্ঞান কি অপচয় করার মত বিষয়?

বাটি খালি করার রূপক দিয়ে হোজ্জা আর কী কী বুঝালেন সেই ব্যাখ্যাও দিলেন।

এক, দুনিয়ার সবরকম জ্ঞানবুদ্ধিতে আমাদের সকলের মাথাই তো ভর্তি। কতো তত্ত্ব কথা আমরা জানি! নতুন কিছু জানতে হলে সেগুলোকে দূরে ঢেলে রেখে ‘বাটি খালি’ বা মগজকে ফাঁকা করে আনতে হবে। ‘বাটি খালি কর’ বলে বুঝালেন ‘মাথা খালি কর’। ‘খোলা মন’ হও। নতুন চিন্তাভাবনা ‘ধারণ করার মানসিকতা’ নিয়ে আসো!

[‘বাটি খালি করা’র অর্থ এটি নয় যে জ্ঞানচর্চা করতে হলে কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক ফরম্যাট করার মত সব জ্ঞান ঝেড়েঝুড়ে মুছে ফেলে আনকোরা মগজ নিয়ে বসতে হবে। বরং অন্য পাত্রে রেখে অর্থাৎ আপাতত সরিয়ে রেখে নতুন ভাবনাকে স্বাগত জানাও।]    

দুই, জ্ঞানবুদ্ধি না থাকলে লোকটি অত টাকাকড়ি কামাল কীভাবে? সেই অর্থে দরিদ্র রয়ে যাওয়া হোজ্জারই তো বরং জ্ঞানবুদ্ধি নাই। থাকলে তিনি দরিদ্র কেন? মানুষ কিছু না কিছু অবশ্যই জানে। সেই জানা মগজের মধ্যে খচখচ উৎপাত করতে থাকলে নতুন ভাবনাকে শুধুই ভুল মনে হতে থাকবে। ভুল না শুদ্ধ সেই বিচার করতে গেলে সময় লাগবে। সময় নিতে হবে। পর্যালোচনা-বিশ্লেষণ লাগবে। তারপর মেনে নেওয়া হবে বা হবে না বুঝা যাবে।

[সামাজিক বিজ্ঞানে এবং বিজ্ঞানেও জ্ঞান আহরণের এই পদ্ধতিই শেখানো হয়। হেগেলিয় দ্বান্দ্বিকতার সারমর্মও একই। থিসিস-এন্টিথিসিস-সিনথিসিস প্রক্রিয়া আমরা শিক্ষিতজনেরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু মানি না।]

তিন, ধনী লোকটি ধরেই নিয়েছে টাকা দিয়ে বাঘের চোখও মেলে। জ্ঞানও কেনা যায়। প্রথমবারেই নয়, দ্বিতীয়বারেও হোজ্জা তার মধ্যে একই স্বভাব দেখলেন। তিনি না-বদলানো মানুষ। পূর্বধারণায় আটকে আছেন। শোনা কথাতেই তার বেশি একিন বেশি ঈমান। যেমন, পণ্ডিতজন পাগল-ছাগল হয় এই বহুশ্রুত অনুসিদ্ধান্ত পর্যন্তই তাঁর বুঝবাঝ আটকে আছে। 

[এগুলোকে আমরা বলি পূর্বসংস্কার [প্রিকন্সেপশন], পূর্বানুমান [প্রিসাপোজিশন], বদ্ধমূল মনোভঙ্গি [রিজিড মাইন্ডসেট] ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞানের ‘কন্ডিশনিং’  অথবা কম্পিউটার বা রোবটিক্স-এর ‘প্রোগ্রামিং’ ইত্যাদির সঠিক বাংলা হয় না। বরং ভাব বুঝি। চিন্তাজগত বিচারে বাংলা ‘কূপমণ্ডূকতা’ শব্দটি দিয়ে আপাতত কাজ চালানো যাক। ঘড়ির বা পুতুলের দম-এর যেমন একটি খাসলত আছে। যতটুকু দম দেওয়া আছে তার বেশি চলার সাধ্য নাই। মানুষ সেরকম নয়। মানুষের একেকজনের মগজ কয়েক লক্ষ সুপার কম্পিউটারের মত। আইনস্টাইন বা নিউটনের মত উচ্চতম বুদ্ধাংকের [ইন্টেলিজেন্স ক্যোশেন্ট] মানুষজনও সেই শক্তির যৎসামান্যই ব্যবহার করেছেন।]

লোকটি সামান্য ভাবলেই কিন্তু কিছু না কিছু একটা অর্থ দাঁড় করাতে পারত।

সেজন্যই হোজ্জা পানিকাণ্ড দিয়ে বুঝতে চেয়েছেন লোকটি আসলেই নতুন ভাবনাচিন্তার সংগে পরিচিত হতে চায় কিনা। আসলেই যদি চাইত, ঘরে ফিরে গিয়ে পানিকাণ্ডে কী ইংগিত থাকতে পারে ভাবতে বসত। কোড-ডিকোড করত। পরের সপ্তায় এসে বলত—হোজ্জা তোমার পানিকাণ্ডের একটি ব্যাখ্যা নিজের মত করে দাঁড় করিয়েছি। ব্যাখ্যাটি ভুল হোক শুদ্ধ হোক সে হোজ্জাকে বলত। তখন দুজনের মত-প্রতিমত নিয়ে আলোচনা আগাতে থাকত। সে আসলেই জানার আগ্রহ নিয়ে এসে থাকলে হোজ্জার নাটকীয় ইংগিত তার চিন্তাকে আরো বেশি নাড়া দিত।  

তত্ত্বীয় ভাবনায় পেয়ে বসার বিপদ আছে। ভূতে ধরার মত বিপদ। ইংরেজি ‘পজেসড’ শব্দটি খানিকটা শক্তিশালী। তত্ত্ব যাতে ভূতের মত আমাদের দখল করে ফেলতে না পারে সেজন্য সেগুলোকে মাঝেমাঝে পাশে সরিয়ে রাখতে হয়। কারণ, বয়স বাড়তে বাড়তে আমরা তত্ত্বীয় ভাবনায় পেকে যাই। কেউ কেউ অযথা ইঁচড়ে পাকনা হয়ে যাই। ফলে আমাদের ভাবনার ধরণ প্রায়ই খুবই ঘুরানো পেঁচানো এবং জটিল হয়ে পড়ে। অনেক তত্ত্বে প্যাঁচ লেগে জিলাপির প্যাঁচ হয়ে যায়। শিশুরা এদিক থেকে ভাল। শিশুমন ভাবনা্বিদ্যার সর্বোত্তম জায়গা। শিশুরা একাগ্র হয়ে গভীর অভিনিবেশে রূপকথার গল্প শুনে।

এই আলোচনাটিকে রূপকথা ধরে নেওয়া যেতে পারে। উদ্দেশ্য যাঁরা শিশুমনের অধিকারী তাঁদের অনুসন্ধিৎসাকে আরেকটু উস্কে দেওয়া। খানিকটা আরামের সংগে উস্কে দেওয়া। আমি জানি এই লেখার পাঠকরা পরিণত বয়সেরই হবেন। কিন্তু হোজ্জার পদ্ধতি মাথায় রেখে, পরিণত ভাবনাগুলোকে আপাতত পাশের বাটিতে সরিয়ে রাখলে খানিকটা আরাম পেলেও পেতে পারেন।   

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

দুই

আগের লেখার মূলকথা ছিল আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় সব কিছুর আগে প্রয়োজন নীতিমালা বা প্রিন্সিপলস, আইডিয়লজি বা আদর্শিকতা নয়। আগের পর্বে “মহাগলদ” সম্পর্কে একটি সহজবোধ্য ভাবনা-কাঠামো খাড়া করা হয়েছিল। এই পর্যায়ে দেখব “তীব্রতম গলদ”টি কী? পরবর্তী পর্বে “তীব্রতর গলদ”, এবং তারও পরের পর্বে “তীব্র গলদ” সম্পর্কিত ভাবনা উপস্থাপন করা হবে। ক্রমান্বয়ে আমরা “সূক্ষ্ম গলদ”, “সাধারণ গলদ” এবং “গলদমুক্তির পথ” পথ সম্পর্কে চিন্তা এগিয়ে নেব।  

মূল আলোচনায় যাবার আগে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাবার পেছনের অসংখ্য ঘটনাপরম্পরার মধ্য হতে শুধুমাত্র পথিকৃৎ ঘটনাটি মনে রাখা প্রয়োজন।

ম্যাগনা কার্টা বিশ্বময় রাষ্ট্রসমূহের সংবিধানের জনক। জনগণের মুক্তির ও মানবাধিকারের প্রথম সনদে জনগণের পক্ষে ভূস্বামী এবং অপর পক্ষ রাজা স্বাক্ষর করেন। চার্টারটির ঘোষণাপত্রে “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ” বা “We, the undersigned…” লেখা ছিল।

গণতন্ত্র সেই তরিকা আমূল বদলে দিল। এখন সকল সংবিধানে লেখা হয় “আমরা, জনগণ এই মর্মে সংবিধানটি গ্রহণ করছি” বা ‘‘We, the People’’ (of any country, for instance Bangladesh) ‘‘do ordain,’’ ইত্যাদি। এমন কি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের সংবিধানেও স্বীকৃত ও আইনগত বৈধতায় সকল ক্ষমতাই জনগণের।

এই বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ গুন্টার ফ্রাঙ্কেনবার্গ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত আইন জার্নালটিতে Ideas, ideals, এবং ideology’ নিয়ে লিখেছেন।  

ম্যাগনা কার্টা হতে সাংবিধানিক গণতন্ত্র— মানবসভ্যতার এই অসাধারণ রাজনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বটিকে মাথায় রেখে সকল রাষ্ট্রচিন্তা এগিয়ে নিতে হয়। সংবিধানের “We, the people…” মানেই ‘রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ’। শুধু মালিক বললেও কম বলা হয়। রাষ্ট্র জনগণের সামাজিক চুক্তির ফসল মাত্র। সেই চুক্তিটির বৈধ মূলপক্ষ জনগণ। ‘সংবিধান’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপরিচালকেরা জনগণের চুক্তিভিত্তিক প্রতিনিধি মাত্র। প্রশাসক বা শাসক কোনোটিই নন। প্রভু হয়ে ওঠতে পারার তো প্রশ্নই ওঠে না।

তাহলে এর ঠিক উল্টোটি ঘটে কীভাবে? তাঁরা প্রভু বনে যান কীভাবে?

রাষ্ট্রচিন্তার একটি তীব্র গলদের মাধ্যমে।

তীব্র গলদটি হচ্ছে—‘প্রিন্সিপলস’ বা ‘নীতিমালা’র মতই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ‘আইডিয়েলস’ বা পরমাদর্শ দরকার। ‘পরমাদর্শ’-এর প্রয়োজনের উপর গুরুত্ব না দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর আইডিওলজিতে আটকে থাকা রাজনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তায় একটি বড় গলদ।

গুন্টার ফ্রাঙ্কেনবার্গ এর Ideas, ideals, এবং ideology’ ব্যাখ্যা ধরে বলা যায় Ideas এবং ideals যেখানে আসল দরকার, সেখানে প্রথম দুই ধাপকে এড়িয়ে আমরা সোজা আইডিয়লজি বা তৃতীয় ধাপে চলে যাই। বিষয়টি অনেকটা ঘর থেকেই বের হলাম না, সোজা হিমালয়ের চুড়ায় উঠে গেলাম ধরণের। 

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসা যাক—

বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্রচরিত্র নির্ধারণ করাই আছে—“গণতন্ত্র”। “গণতন্ত্র” স্বাধীনতা পাবার পরপরই নির্ধারিত রাষ্ট্রচরিত্র। কন্সট্যান্ট। অনড়। ‘সমাজতন্ত্র’ [আসলে ‘সমাজবাদ] ছিল আশাবাদ বা একটি সদিচ্ছা বা উচ্ছ্বাসপূর্ণ উচ্চাশা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা হবে, এবং সমাজবাদী ভাবভাবনা ও মূল্যবোধের সংযোগ ঘটিয়ে মানবিক রাষ্ট্রের মত জনবান্ধব আচরণ করা হবে—সংবিধানে এই স্বাপ্নিকতা যুক্ত হয়েছিল। এখন গণতন্ত্র আসলেই ছিল কি ছিল না এখনো আছে বা নাই সেটি একেবারেই অন্য আলাপের বিষয়। কাজির গরু গোয়ালে না থাকুক কাগজে তো আছে!

আবার বলছি, বাংলাদেশের সংবিধানে মূলনীতি বলা হলেও গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র আইডিয়েলসও নয়, লক্ষ্যও নয়। এটি আসলে আমাদের নির্ধারণ করা রাষ্ট্রচরিত্র।

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলোর কথা ধরা যাক। সেগুলোতে মূলত নানা নামে ও ভাবে দুইটি আইডিয়েলস থাকে—
১) ইক্যুয়ালিটি বা সমতা
২) সোশ্যাল জাস্টিস বা সামাজিক ন্যায়বিচার

কারণ এই দুইটি নিশ্চিত করা গেলে সবকিছু কান টানলে মাথা আসার মতই নিশ্চিত হয়ে যায়।  লিখুন বা না লিখুন গণতন্ত্র তো ‘‘We, the People’’ লেখার সংগে সংগেই সুনিশ্চিত করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আবারো লিখে দ্বিরুক্তি করা তো অর্থহীন। ‘আইনের শাসন, সুবিচার, জানমালের সুরক্ষা, ইহজাগতিকতা (সেক্যুলারিটি) ইত্যাদি যা কিছুই বলি না কেন ‘ইক্যুয়্যালিটি এবং সোশ্যাল জাস্টিস দিয়েই নিশ্চিত করা যাচ্ছে। 

প্লেটো তাঁর সময়েই  বলেছিলেন “ওয়ান আইডিয়েল কনস্টিটিউশন”  বা  ‘এক পরমাদর্শের সংবিধানই’ শ্রেষ্ঠতম সংবিধান। এখনো কল্যাণ রাষ্ট্রগুলো প্লেটোর পরামর্শকে যৌক্তিক মনে করে। তাই সংবিধানে একটি-দুইটি  আইডিয়েল রাখে।  যেমন ফিনল্যান্ডের আইডিয়েলস মূলত একটি। ‘ফান্ডামেন্টাল  রাইটস অব সিটিজেনস’। এই এক নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা। জীবনমান, ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন রাজনীতির সকল রকম অধিকারই সুরক্ষা করে চলেছে। নরওয়ের সংবিধানে আইডিয়েলস এর বদলে ভ্যালুজ বা মূল্যবোধ বলা হয়েছে “রুল অব ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস” বা ‘আইনের শাসন’  এবং ‘মানবাধিকার’কে। কানাডার সংবিধানেরও মূলমন্ত্র “civil rights and liberties of every citizen”। বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি দেশের সংবিধানের আইডিয়েলও কানাডার মতই। সোজাসাপ্টা। মাথাভারি নয়। 

টুগেদার, আমাদ রাহমা, কার্টুন মুভমেন্ট

ধরা যাক বাংলাদেশের সংবিধানেও অনেকগুলো নয়, একটি বা দু’টি পরমাদর্শই যথেষ্ট বিবেচনা করা হল। ধরা যাক শুধুই দুইটি—‘সমতা’ ও ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ রাখা হল । সংবিধানে ভেঙে বলা হোক বা না হোক একটির অর্থ ‘সকলে সমান’, আরেকটি ‘অন্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে না এমন যে কোনো রাজনীতি ও মতাদর্শিক আচরণে যে কেউ সক্রিয় থাকতে পারবে।’

অর্থাৎ, ‘সমতা’ পরমাদর্শটি নিশ্চয়তা দেয় যে সকল নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের সমান দৃষ্টি থাকবে। কারো প্রতিই কোনোরকম বৈষম্য বা বিদ্বেষমূলক আচরণ করা হবে না।’  এই পরমাদর্শ থাকলে ‘সেক্যুলারিটি’ [‘সেক্যুলারিজম’ নয়] নিয়েও আর আলগা একটি বাক্যেরও প্রয়োজন থাকছে না। আলগা করে লিখতেও হচ্ছে না।  অত লিখে আসলে কী হয়? সংবিধান মতেই ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-অবস্থান কোনো কিছুর ভিত্তিতেই মানুষে মানুষে বৈষম্য করার সুযোগ থাকছে না। বরং, সেক্যুলারিটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে আইডিয়েল ঠিক করার অর্থই বিভাজন আছে এবং থাকবে ধরে নেওয়া হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার, সুরক্ষা, আইনের শাসনসহ যত লম্বা তালিকাই করা হোক না কেন, এই এক আইডিয়েল দিয়েই সেগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব।

যখন সামাজিক নিরাপত্তা আইডিয়েল, তখন নাগরিকের হাজার হাজার আইডিওলজি থাকলেও কোনোটিই কোনোটির সংগে সাংঘর্ষিক হবেনা। কু ক্লাক্স ক্ল্যান এর মত ধ্বংসাত্মক দল, বা আই এসএস, অথবা নাৎসিবাদী কর্মকাণ্ড, যেগুলো সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, সেইসব ইজম ছাড়া যে কোনো নাগরিক যে কোনো ‘আদর্শিকতার চর্চা করতে পারবেন বিনা বাধায়।     

কেউ আমেরিকায় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন সমর্থন করতে চাইলে করতে পারে নির্দ্বিধায়। নারীর প্রতি সহিংসতা, মৌলবাদের বিপক্ষে আন্দোলন, যৌনবৈচিত্র্যের পক্ষে কথা বলা, সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে দাঁড়ানো, নিওলিবার‍্যালিজমের বিপক্ষে দাঁড়ানো, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের মহাসম্মেলনে নিরাজপন্থীদের সমর্থন করা ইত্যাদি অজস্র অসংখ্য বিষয়ে যে যার যার মত নিজস্ব মতাদর্শিকতার চর্চা করতে কোনোই বাধা থাকছে না। এটি নৈতিকতা বা ‘এথিক্স’। আইডিয়েল-এর সংগে এথিক্সের কোনোই বিরোধ থাকে না।  

এই প্রসঙ্গে যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বুঝা প্রয়োজন, সেগুলি হচ্ছে—

১) পরমাদর্শ বা শ্রেয়নীতি (আইডিয়েলস বা হাই-আইডিয়েলস)
২) নৈতিকতা (এথিক্স, যেমন যে কোনো মানবিক আন্দোলনকে সমর্থন)
৩) নীতিমালা (প্রিন্সিপলস, আগেই আলোচিত হয়েছে যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজননির্ভর )
৪) আদর্শিকতা (আইডিয়লজি, যেমন সমাজবাদী জ্ঞানচর্চা ও সক্রিয় রাজনীতি)

‘আইডিয়েলস’(১) এবং ‘আইডিয়লজি’(৪) মোটেই এক বিষয় নয়। ‘আইডিয়েলস’ বা ‘হাই আইডিয়েলস’ মানে ‘পরমাদর্শ’ বা শ্রেয়নীতি। ‘আইডিয়লজি’ ‘আদর্শিকতা’। 

শব্দের গঠন-কাঠামোয় মিল থাকলেও দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বড়সড় একটি সমস্যা এই যে আমাদের রাষ্ট্রচিন্তায় এবং রাজনীতি-ভাবনায় আমরা দুটোকে একেবারেই গুলিয়ে ফেলি। সবচাইতে বেশি গুলিয়ে ফেলেন তাঁরাই যাঁরা দাবি করেন “আমরা আদর্শের রাজনীতি করি”। তাঁরা প্রায়শই “আদর্শিকতা” বা ‘আইডিয়লজি’ এবং ‘আইডিয়েলস’ বা ‘পরমাদর্শ’কে একই বিষয় ভাবেন। 

আমরা ইয়োরোপীয় দর্শনের ব্যবহৃত ল্যাটিন, গ্রীক ও ইংরেজি শব্দের অনেক গোলমেলে এবং বিভ্রান্তিকর ব্যবহার করি। দীর্ঘদিন যাবত শব্দ, প্রত্যয় ও ধারণাগুলো অযথার্থভাবে ব্যবহারও করে চলেছি। সেরকম তিনটি মহা গোলমেলে শব্দ আছে। একটি হচ্ছে ‘ইজম’ (ism) একটি ‘ক্রেসি’ (cracy), এবং অন্যটি ‘লজি’ (logy)। যেমন ‘সোস্যালিজম’-এর বাংলা করেছি সমাজতন্ত্র, সমাজবাদ নয়। আবার ‘ডেমোক্রেসি’তে ‘ইজম’ না থাকলেও ‘গণতন্ত্র লিখছি’।

সেক্যুলারিজম ‘ইহজাগতিকতা’ হলেও বাংলা করেছি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। তাছাড়া ‘সেক্যুলারিটি’ না লিখে আমরা লিখছি ‘সেক্যুলারিজম’। এটি ‘ইজম’ বা দর্শন ছিল দেড়শ-দুইশ বছর আগে। এখন আর দর্শনের গণ্ডিতে না থেকে ‘বিজ্ঞানবোধসম্মত’ বা ‘ইহজাগতিকতা-বোধসম্মত’ আচরণ বুঝায়।

‘লজি’ ‘ইজম’ নয়। তবু আইডিয়লজি’র বাংলা করেছি আদর্শবাদ। অথচ ল্যাটিন ‘লজি’ অর্থ ‘বিজ্ঞান’ বা ‘বিদ্যা’। বায়োলজি [প্রাণবিদ্যা/ বিজ্ঞান] সোসিওলজি [সমাজবিদ্যা/ বিজ্ঞান], সাইকোলজি [মনোবিদ্যা/ বিজ্ঞান], ইকোলজি [পরিবেশবিদ্যা/ বিজ্ঞান] এরকম অসংখ্য শব্দ আছে। সেই অর্থে ‘আইডিয়লজি’ আসলে ‘আদর্শিকবিদ্যা’। আমরা ‘আদর্শিকতাও বলতে পারি। আইডিয়লজি’ “আদর্শবাদ” তো নয়! কারণ, ‘ইজম’ এর বাংলা তো করেছি ‘বাদ’।

‘ইজম’ কী? এটি মূলত একটি ধারা। এক ধরণের বিষয় নির্ভর ঝোঁক বা অবস্থা। যেমন রেসিজম বর্ণবাদ, এথিজম নিরীশ্বরবাদ, টেররিজম সন্ত্রাসবাদ। র‍্যাডিক্যালিজম, কম্যুনালিজম, এক্সপ্রেশানিজম, স্কেপ্টিসিজম, অ্যাগনস্টিজম, আমেরিক্যানিজম, অ্যানার্কিজম এরকম স্বভাব-নির্দেশক উদাহরণ অসংখ্য। এইসব ‘ইজম’ দর্শন নির্দেশক। জ্ঞানজাগতিক বিষয়। ‘ইজম’ আবার বিভিন্ন ভাবনাপন্থিতা বা ‘স্কুল অব থটস’। এক ধরণের আদর্শিক ঘরাণায় আস্থা। যেমন ‘সোস্যালিজম’ সমাজবাদ বা সামাজিক সাম্যের মতাদর্শে আস্থা।

জ্ঞানজাগতিক তর্ক-বাহাসে অত্যন্ত দরকারি হলেও রাষ্ট্রচিন্তায় আইডিয়লজি অনর্থক ফ্যাসাদ তৈরি করে। কারণ আইডিয়লজির সংখ্যা সীমা-পরিসীমাহীন। প্রায় সবগুলোই সমস্যাযুক্ত। নানা রকম ধারা উপধারায় বিভক্ত। এগুলোকে কূটনীতি দিয়ে একেবারেই অকার্যকর কর দেওয়া যায়। তার প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জিবিগনিউ ব্রেজেনস্কি।

জিবিগ্নিউ ব্রেজেন্সকি কী করেছিলেন?  আমেরিকা পুঁজিবাদী দেশের তালিকার এক নম্বরে আমরা সকলেই জানি। সমাজতন্ত্রের সবচাইতে বড় দৈত্যাকার শত্রু বলতেই বুঝি ‘মার্কিন পুঁজিবাদ । ব্রেজেন্সকি পর্দার আড়াল হতে সমাজতন্ত্রকে পোষা বিড়াল বানিয়ে দিতে পেরেছেন। পুঁজিবাদের জন্য সমাজতন্ত্র আর হুমকি হতে পারেনি।

দীর্ঘ ইতিহাসটি সংক্ষেপে এইরকম— ষাটের দশকে দুই পরাশক্তির যুদ্ধ চরমে।  এই সময় আমেরিকায় সমাজবাদী রাজনীতি শক্তিশালী হয়ে ওঠতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈন্যদের (বেবি-বুমার্স) সন্তানরা তখন তরুণ যুবক। সংখ্যায় অনেক।  তাদের জীবনমান, চাকরি-বাকুরি ভবিষ্যতের ব্যবস্থা না করে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক প্রভাব খাটানো তারা মোটেই পছন্দ করেনি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হল চিরবঞ্চিত কালো আফ্রিকান-আমেরিকান তরুণ যুবকেরা। সংগীত, নৃত্যগীত, নেশা, উদ্ভট পোশাক আশাকের ফ্যাশন ও জীবনধারায় তাদের প্রতিবাদ জোরদার হতে থাকল। সমাজবাদী রাজনীতিতে নাম লেখাল তারা। অন্যদিকে মার্টিন লুথার কিং এবং এলাইজা মোহাম্মদের নেশন অব ইসলাম এবং ম্যাল্কম এক্স-এর প্রভাব আকাশচুম্বী হতে শুরু করল। মার্কিন পুঁজিবাদ বিপদের সম্ভাবনা দেখল।

জিবিগ্নিউ ব্রেজেনস্কি প্রেসিডেন্ট লিন্ডেন জন্সন এবং জিমিকার্টার-এর উপদেষ্টা হিসেবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেন। কার্ল মার্ক্স পুঁজিবাদের যেসব দুর্বলতা চিহ্নিত করলেন, সেগুলোর সমাধানে নামলেন। দারুণ কৌশল। নতুন নতুন কলকারখানায় ক্ষুব্ধ যুবকদের জন্য শ্রমবাজার বিস্তৃত করা হল। শ্রম-শোষণ বন্ধ করা হল। শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার বাড়ি-গাড়ির জন্য বিনাসুদে ঋণ, প্রণোদনা, বীমা, চিকিৎসাসেবা, পেনশন, বয়স্ক ভাতা—মোদ্দা কথা, প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হল। অল্পদিনেই সমাজবাদী রাজনীতি সেই যে মুখ থুবড়ে পড়ল, আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারল না। তাতে উপকার হল পুঁজিবাদেরই। সুস্থ ও সুখি শ্রমিকদের কারণে উৎপাদন বাড়ল। 

বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজবাদী সমাজব্যবস্থা কায়েম বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপের স্বপ্ন দেখা এই সময়ের বাস্তবতা মোটেই নয়। এই ইউটোপিয়া বা কল্পস্বর্গে কোনো সমাজতন্ত্রী বাস করলে ভুল করবেন। তবে সমাজবাদী জ্ঞানকাণ্ড অত্যন্ত শক্তিশালী বিধায় পুঁজিবাদের মানিবিকীকরণে সমাজবাদী আদর্শিকতা দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কল্যাণ রাষ্ট্রগুলোও পুঁজিবাদী রাষ্ট্রই। কিন্তু এসব রাষ্ট্র সামাজিক গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদে রূপ নিয়েছে। এই মানবিকীকৃত পুঁজিবাদের প্রতি নাগরিকদের ভালবাসা, অনুরক্তি, সম্মান, সমর্থন সবই আছে।

অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রযন্ত্র সমাজবাদের এই আদর্শিক শক্তিকে ভয় পায়। তাই তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালায় জনগণ যাতে ‘আইডিয়েলস’ ভুলে যেতে পারে। তারা চায় আইডিয়লজির খুঁটিনাটি  নিয়ে এই শক্তিটি পরস্পর নিরন্তর দ্বন্দ্বরত থাকুক।  বিভাজিত থাকুক। কখনোই একতাবদ্ধ হতে না পারুক।  তাই তারা একেকবার একেক রকম জাতীয়তাবাদী জজবা হাজির করে।  আইডিয়লজিতে আটকে থাকা প্রগতিবাদী ও সমাজবাদীরা এই ফাঁদে অনায়াসে পা দেয়।  এই সুযোগে রাষ্ট্রযন্ত্র ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ কৌশল আরো শক্ত করে।  প্রগতিশীল চিন্তার মানুষেরা রাষ্ট্রচিন্তায় এই তীব্রতম গলদটিকে ধরতে না পারলে, এবং প্রতিরোধ করতে না পারলে রাষ্ট্র আরো পীড়নমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

  • হেলাল মহিউদ্দীন: অধ্যাপক, রাজনীতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান; এবং গবেষক, সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
  • লেখার প্রথম কিস্তি: রাষ্ট্রসত্তায় দুইটি মহাগলদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *